একই দিনে না ফেরার দেশে সাবেক দুই এমপি তোফায়েল আহমেদ ও আব্দুল মতিন

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-০১

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই দিনে মারা গেছেন জাতীয় সংসদের সাবেক দুই সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদ এবং আব্দুল মতিন।

সোমবার (১ জুন) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসভবনে মারা যান মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের একজন ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

সংসদীয় রাজনীতিতে তোফায়েল আহমেদের ছিল দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পথচলা। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে তিনি নয়বার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

অন্যদিকে আব্দুল মতিন ছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া অঞ্চলের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রতিনিধি। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা এই নেতা জয়চণ্ডী ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীর সমর্থনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর আব্দুল মতিন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৭ মার্চ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামে।

প্রবীণ এই দুই রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, সহকর্মী, রাজনৈতিক অনুসারী এবং নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

error: Content is protected !!