ডিমের কুসুম নাকি সাদা অংশ—কোনটি বেশি উপকারী?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৯
ছবি : সংগৃহীত

ডিমকে পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী মূল্যের খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারে ডিমের ব্যবহার ব্যাপক। তবে স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই, বিশেষ করে যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা প্রায়ই কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশ খেয়ে থাকেন। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের কুসুমেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ, তাই প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

ডিমের সাদা অংশের উপকারিতা

ডিমের সাদা অংশ উচ্চমানের প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। এতে কোনো চর্বি বা কোলেস্টেরল থাকে না এবং ক্যালোরিও তুলনামূলক কম। একটি ডিমের সাদা অংশে সাধারণত ১৭-১৮ ক্যালরি এবং প্রায় ৩.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

যাদের ওজন কমানোর লক্ষ্য রয়েছে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোলেস্টেরল, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যার কারণে কুসুম এড়িয়ে চলতে হয়, তাদের জন্য সাদা অংশ উপযোগী হতে পারে।

ডিমের কুসুম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডিমের কুসুমকে পুষ্টির ভাণ্ডার বলা হয়। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, ক্যালসিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। এসব উপাদান চোখের স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।

এ ছাড়া গোটা ডিমে প্রায় ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা শুধুমাত্র সাদা অংশের তুলনায় বেশি। তাই সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য কুসুমসহ ডিম খাওয়া অধিক উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ব্যায়ামকারীদের জন্য পরামর্শ

যারা নিয়মিত শরীরচর্চা বা বডি বিল্ডিং করেন, তাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি থাকে। তারা চাইলে একটি গোটা ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত ১-২টি ডিমের সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে অতিরিক্ত চর্বি ও ক্যালোরি না বাড়িয়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব।

শেষ কথা

সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য কুসুমসহ গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে শরীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান একসঙ্গে পায়। তবে হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়ার অভ্যাস নির্ধারণ করা উচিত।

error: Content is protected !!