ছবি : সংগৃহীত
বর্তমান সময়ে তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কোলন, ফুসফুস ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হতে পারে শরীরের জৈবিক বয়স প্রকৃত বয়সের তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া।
মানুষের জন্মতারিখ অনুযায়ী যে বয়স নির্ধারণ করা হয়, সেটি হলো ক্রোনোলজিক্যাল এজ বা প্রকৃত বয়স। অন্যদিকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, কোষের অবস্থা এবং সামগ্রিক শারীরিক সক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত বয়সকে বলা হয় জৈবিক বয়স।
গবেষকদের মতে, কারও জৈবিক বয়স যদি প্রকৃত বয়সের তুলনায় বেশি হয়, তাহলে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের শরীরের জৈবিক বয়স ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মানুষের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।
গবেষণার বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, প্রকৃত বয়স ও জৈবিক বয়সের ব্যবধান যত বেশি, ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং অন্ত্রের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তত বাড়ে।
গবেষকরা কয়েকটি বিষয়কে এর পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো—
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে ক্যানসার সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় হলো কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যানসার। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ১৯৬০-এর দশকে জন্ম নেওয়াদের তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
গবেষণাটি সম্প্রতি জার্নাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে গবেষকরা বলছেন, তরুণদের মধ্যে ক্যানসার বৃদ্ধির পেছনে পরিবেশগত ও অন্যান্য জীবনযাপন-সংক্রান্ত কারণ কতটা ভূমিকা রাখছে, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে জৈবিক বয়সের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমানো যেতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
