ছবি : সংগৃহীত
বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকের ধারণা, শুধু অ্যালকোহল বা মদ্যপানের কারণেই এই রোগ হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, যারা কখনো অ্যালকোহল পান করেন না, তারাও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
লিভারের কোষে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমে গেলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। স্বাভাবিকভাবে লিভারে সামান্য চর্বি থাকে, কিন্তু লিভারের মোট ওজনের ৫ শতাংশের বেশি চর্বি জমে গেলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা: শরীরে, বিশেষ করে পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ থাকলে লিভারে চর্বি জমার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টিজাত খাবার, কেক, বিস্কুট, ফাস্টফুড ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে লিভারে চর্বি জমতে পারে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড: রক্তে ক্ষতিকর চর্বির মাত্রা বেশি থাকলে তা লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: নিয়মিত ব্যায়াম না করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাসও ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান: অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষের ক্ষতি করে এবং অ্যালকোহলজনিত ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
কিছু ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: দীর্ঘদিন নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, অপুষ্টি এবং কিছু হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে—
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প নেই। এজন্য—
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই সুস্থ লিভার বজায় রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
