দিনে তিনবেলা নাকি অল্প অল্প করে বারবার খাবেন?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০১
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা ধরনের মতামত প্রচলিত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দিনে তিনবেলা খাবার খাওয়ার অভ্যাস চলে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়ার প্রবণতাও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে শরীরের জন্য কোন পদ্ধতিটি বেশি উপকারী—এ প্রশ্নের একক কোনো উত্তর নেই বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

তাদের মতে, সবার জন্য একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস কার্যকর হয় না। একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যগত অবস্থা, ক্ষুধার ধরন এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য বিবেচনা করেই উপযুক্ত খাবারের রুটিন নির্ধারণ করা উচিত।

মেটাবলিজম নিয়ে প্রচলিত ধারণা কতটা সত্য?

অনেকেই মনে করেন, ঘন ঘন খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বেড়ে যায়। বাস্তবে খাবার হজমের সময় শরীর কিছু অতিরিক্ত ক্যালরি ব্যয় করলেও, সেটি দিনের মোট ক্যালরি খরচে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে না।

গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি যদি দিনে মোট ২ হাজার ক্যালরি গ্রহণ করেন, তাহলে সেই ক্যালরি তিনবারে বা ছয়বারে খেলেও সার্বিক মেটাবলিজমে তেমন পার্থক্য হয় না। বরং বিপাকক্রিয়ার ওপর বয়স, শরীরের গঠন, হরমোন, শারীরিক ব্যায়াম এবং ঘুমের মান বেশি প্রভাব ফেলে।

ওজন কমাতে কোন বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা নয়, বরং মোট ক্যালরি গ্রহণ ও ক্যালরি ব্যয়ের ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শরীর যত ক্যালরি ব্যয় করে, তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করতে পারলে ওজন কমানো সম্ভব। এর সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম যুক্ত হলে ফল আরও ভালো হয়।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে খাবারের মানই মুখ্য

ক্ষুধা কতক্ষণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে খাবারের গুণগত মানের ওপর।

প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। অন্যদিকে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার দ্রুত হজম হয়ে যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা অনুভূত হতে পারে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কী উপযোগী?

সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের সংখ্যা রক্তে শর্করার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না। তবে ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় না খাওয়ার কারণে অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

কোন পদ্ধতি কার জন্য?

দিনে তিনবেলা খাবার খাওয়ার অভ্যাস উপযোগী হতে পারে তাদের জন্য, যারা নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করেন, একবারে পরিতৃপ্ত হয়ে খেতে চান, অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং এড়াতে চান কিংবা ব্যস্ততার কারণে বারবার খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে, যারা দীর্ঘ সময় না খেলে অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন, সারাদিন শক্তি ধরে রাখতে চান, কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেন, বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হয় অথবা একবারে বেশি খাবার খেলে অস্বস্তি অনুভব করেন, তাদের জন্য অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খাওয়ার অভ্যাস বেশি উপযোগী হতে পারে।

উপসংহার

পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য একটাই আদর্শ খাদ্যাভ্যাস নেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এমন একটি রুটিন অনুসরণ করা, যা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব এবং যেখানে সুষম, পুষ্টিকর ও পরিমিত খাবার নিশ্চিত করা যায়। তাই খাবারের সংখ্যা নয়, বরং খাদ্যের গুণগত মান, মোট ক্যালরি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

error: Content is protected !!