সিলেট থেকে গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, চলতি মাসেই রেলওয়ের প্রকৌশলীরা সিলেট সফর করে সম্ভাব্য রুট পরিদর্শন ও প্রাথমিক সার্ভে করবেন। এরপর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন করা হবে।
বুধবার (১ জুলাই) সিলেট জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত ফল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট-জাফলং রেললাইন চালু হলে জাফলং থেকে সিলেট পর্যন্ত পণ্য পরিবহন সহজ, দ্রুত ও কম খরচে করা যাবে। পাশাপাশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কোম্পানীগঞ্জ, সালুটিকর, গোয়াইনঘাট ও হাদারপাড় এলাকায় পাঁচটি বড় সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। আগামী মাসের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সিলেট বিমানবন্দরে জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের মরদেহ পরিবহনের জন্য একটি ফ্রিজার ভ্যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং শিগগিরই একটি অ্যাম্বুলেন্সও যুক্ত হবে।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান জানাতে বিমানবন্দরে একটি বিশেষ লাউঞ্জ নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি চালু হবে, যেখানে শিশুদেরসহ প্রায় ৪০ জন বসার ব্যবস্থা থাকবে। একই সঙ্গে একটি আধুনিক ওয়্যারহাউসের নির্মাণকাজও সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজ দ্রুত শেষ করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অতিরিক্ত ছয়জন সার্ভেয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জৈন্তা কলেজের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নকাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা, আল আজাদ, তাপস দাশ পুরকায়স্থ, মো. মনিরুজ্জামান মনিরসহ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
