ছবি : সংগৃহীত
রমজান মাস ছাড়াও সারা বছরই জনপ্রিয় একটি ফল খেজুর। প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদের কারণে অনেকেই এটি পরিশোধিত চিনির তুলনায় স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বেছে নেন। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এতে থাকা খাদ্যআঁশ (ফাইবার) রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি হজম প্রক্রিয়াতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
খেজুর তাজা, শুকনা, পেস্ট কিংবা সিরাপ—বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। প্রতিটি ধরনেরই রয়েছে আলাদা স্বাদ ও পুষ্টিগুণ। সঠিক পরিমাণে এবং উপযুক্ত উপায়ে খেলে এটি হতে পারে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাজা খেজুরে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম, রসালো এবং সহজে হজম হয়। শুকনা খেজুরের তুলনায় এতে ক্যালোরি ও প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণও কিছুটা কম থাকে। দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যকর নাশতা হিসেবেও উপযোগী। তবে তাজা খেজুর দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে কয়েক মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
খেজুর সাধারণত তিনটি পর্যায়ে খাওয়া হয়—
শুকনা খেজুর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং এটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এতে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি তুলনামূলক বেশি থাকলেও খাদ্যআঁশও বেশি থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া শুকনা খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, নিয়াসিন, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের একসঙ্গে বেশি খেজুর না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
খেজুরের শাঁস থেকে তৈরি পেস্ট কেক, মাফিন, কুকিজসহ বিভিন্ন বেকড খাবারে পরিশোধিত চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে খেজুরের প্রাকৃতিক আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বজায় থাকে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি ছাড়াই খাবারে মিষ্টি স্বাদ যোগ করা সম্ভব। খেজুর দিয়ে পেস্টের পাশাপাশি বাটার, জ্যাম ও জেলিও তৈরি করা যায়।
খেজুরের সিরাপ প্রাকৃতিক মিষ্টিকারক হিসেবে রান্না ও বেকিংয়ে ব্যবহার করা যায়। দারুচিনি, এলাচ, আদা, বিভিন্ন বাদাম ও বীজজাতীয় উপাদানের সঙ্গে এর স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।
যদিও এতে চিনির পরিমাণ বেশি, তবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি সাধারণ পরিশোধিত চিনির তুলনায় কিছুটা পুষ্টিগুণসম্পন্ন বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে এটি অবশ্যই সীমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাকৃতিক চিনির আধিক্যের কারণে খেজুর থেকে ফারমেন্টেশনের মাধ্যমে ভিনেগার ও বিভিন্ন পানীয় তৈরি করা সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খেজুরের রস থেকে এসব পণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।
খেজুর সহজেই বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায়। যেমন—
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও খাদ্যআঁশের সমন্বয় রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। তাই সুস্থ ব্যক্তি কিংবা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে খেজুর খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।
