গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার: প্রাথমিক পর্যায়েই নিয়ন্ত্রণে আনতে যেসব অভ্যাস জরুরি

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৩
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমানে দেশে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অনেকেই অন্য কোনো শারীরিক পরীক্ষা করাতে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম জানতে পারেন, তাদের লিভারে চর্বি জমেছে। রিপোর্টে ‘গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার’ উল্লেখ থাকলে অনেকের মধ্যেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি রোগটির প্রাথমিক ধাপ এবং এ সময়ে সচেতন হলে লিভারকে আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

ফ্যাটি লিভার কী?

ফ্যাটি লিভার হলো এমন একটি অবস্থা, যখন লিভারের কোষে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভারের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। সাধারণত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা অন্য কোনো কারণে করা আলট্রাসনোগ্রাফিতেই এটি ধরা পড়ে।

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ৫টি কার্যকর উপায়

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে তা কমানোর চেষ্টা করুন। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের মোট ওজনের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারে জমে থাকা চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফলমূল, আঁশসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার রাখুন। পাশাপাশি চিনি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত বা ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্য কোনো শারীরিক ব্যায়াম লিভারের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শরীরের বিপাকক্রিয়াও উন্নত করে।

৪. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা ফ্যাটি লিভারের উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অ্যালকোহল পরিহার করুন
অ্যালকোহল লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ফ্যাটি লিভার বা অন্য কোনো লিভারজনিত সমস্যা থাকলে অ্যালকোহল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

গ্রেড-১ ফ্যাটি লিভার ধরা পড়া মানেই গুরুতর জটিলতা নয়। তবে এটিকে অবহেলা করাও উচিত নয়। সময়মতো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লিভারের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

error: Content is protected !!