ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার পর আবারও চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত এই রুট পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BG-208 সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। প্রথম ফ্লাইটের যাত্রীদের স্বাগত জানাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট পুনরায় চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং বিমান বাংলাদেশের পরিচালক ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে রুটটি বন্ধ হওয়ার কারণ পর্যালোচনা এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়।
এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির ঘোষণা দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাসের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর হুমায়ুন কবির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় করেন বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছার ফলেই বহু প্রতীক্ষিত এই আন্তর্জাতিক রুটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেটিদের জন্য সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট কেবল একটি বিমান যোগাযোগ নয়; এটি পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রবাসীদের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। ফলে রুটটি পুনরায় চালুর ঘোষণায় প্রবাসী সিলেটিদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
