কিডনি রোগীরা রাতে দুধ খেতে পারবে?

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৭
ছবি : সংগৃহীত

দুধ পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত হলেও সবার জন্য সব সময় এটি সমানভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে রাতে দুধ পান করার ক্ষেত্রে কিছু মানুষের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক অবস্থায় বা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে রাতে দুধ খেলে অস্বস্তি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের অবস্থাগুলোতে রাতে দুধ পান করার আগে সতর্ক থাকা উচিত—

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে
যাদের শরীরে দুধের প্রাকৃতিক চিনি ল্যাকটোজ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাকটেজ এনজাইমের ঘাটতি রয়েছে, তারা দুধ পান করলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে
রাতে, বিশেষ করে ঘুমানোর ঠিক আগে পূর্ণ চর্বিযুক্ত বা বেশি পরিমাণে দুধ পান করলে কিছু মানুষের অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের উপসর্গ বাড়তে পারে।

ঘুমের সমস্যায় ভুগলে
চিনি বা মিষ্টি মিশিয়ে দুধ পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ও ইনসুলিনের পরিবর্তনের কারণে কিছু মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

দুধে অ্যালার্জি থাকলে
দুধের প্রোটিন, বিশেষ করে কেসিন ও ওয়েহ-এর প্রতি অ্যালার্জি থাকলে দুধ পান করা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যানাফাইল্যাক্সিসের মতো জরুরি পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে
দুধে ফসফরাস, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য দুধের পরিমাণ ও ধরন চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

ডায়রিয়া বা হজমের সমস্যা চলাকালে
ডায়রিয়া বা পাচনতন্ত্র দুর্বল থাকলে দুধ খাওয়ার ফলে হজমে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও বেড়ে যেতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, এসব ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুস্থ ব্যক্তিরা সাধারণত পরিমিত পরিমাণে দুধ পান করতে পারেন। তবে যাদের উল্লেখিত সমস্যা রয়েছে, তারা রাতে দুধ পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে নিরাপদ থাকবেন।

error: Content is protected !!