প্রবাসী ও কারাবন্দি ভোটারদের অন্তর্ভুক্তিতে ইসির মহাযজ্ঞ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-০৯-২৮
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে প্রবাসী ও কারাবন্দি ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞরা একে উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ মনে করলেও, ইসি বিষয়টিকে গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ‘মহাযজ্ঞ’ হিসেবে দেখছে।

প্রবাসী ভোটার সংখ্যা ও পরিকল্পনা

ইসি সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তত ৫০ লাখ প্রবাসীকে ভোটে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। এ জন্য অনলাইন নিবন্ধনভিত্তিক ‘পোস্টাল ভোট’ ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এ উদ্দেশ্যে একটি ওয়েব অ্যাপ ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের এ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজ এনআইডি, মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট ও ঠিকানার তথ্য জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। যাচাই শেষে তারা ডাকযোগে ব্যালট পাবেন এবং তা পূরণ করে ফেরত পাঠাতে পারবেন।

ইসির হিসাব অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি ব্যুরো ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য মিলিয়ে ৪০টি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। এর মধ্যে সৌদি আরবেই আছেন সবচেয়ে বেশি—৪০ লাখের বেশি। নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে কম, মাত্র আড়াই হাজার। প্রবাসীদের প্রায় ৭০ শতাংশের এনআইডি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোট গ্রহণের পদ্ধতি

মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলে প্রবাসী ভোটাররা কেবল প্রতীকে ভোট দিতে পারবেন। প্রার্থীর নাম ব্যালটে থাকবে না। ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রেরিত ভোটগুলো সংশ্লিষ্ট আসনে পৌঁছে ট্রেজারিতে সংরক্ষিত থাকবে এবং নির্বাচনের দিন দেশের ভোটের সঙ্গে গণনা করা হবে।

কারাবন্দি ও সরকারি কর্মচারীদের ভোট

প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ৭১টি কারাগারের কয়েদি এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ব্যালট সিস্টেম’ চালু করা হচ্ছে। তবে কারাগারে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা, নিরাপত্তা এবং সময়মতো ব্যালট ফেরত আনার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্ভাব্য ব্যয় ও চ্যালেঞ্জ

ভোটারপ্রতি প্রায় ৭০০ টাকা ব্যয় ধরে এ উদ্যোগে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি। তবে চূড়ান্ত ব্যয় নির্ভর করবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো ব্যালট পৌঁছানো, ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব, বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন আইন ও দূতাবাসগুলোর সীমিত সক্ষমতা—সবকিছুই বাস্তবায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কমিশনের অবস্থান

ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, “প্রবাসী ভোটারদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ কঠিন হলেও অন্তত ৫০ লাখকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আহমদ জানান, “এবারের নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে হচ্ছে। আমরা চাই প্রবাসী, কারাবন্দি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী—সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে। এটি নতুন উদ্যোগ হলেও সবার সহযোগিতায় আমরা সফল হব।”

নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নতুন মাইলফলক রচিত হবে। তবে প্রযুক্তি, আইন, লজিস্টিক ও আস্থার সমন্বয় ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

 

error: Content is protected !!