ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গার বাজারেই সারা বছর সহজলভ্য একটি ফল হলো কলা। দাম সাশ্রয়ী, খেতেও ঝামেলাহীন। তাই নাশতা, দুপুর কিংবা বিকেল—দিনের যে কোনো সময়ই অনেকের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয় এই ফলটি।
কিন্তু শুধু সহজলভ্য বলেই নয়, কলার রয়েছে নানা স্বাস্থ্যগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কখন খাচ্ছেন—তার ওপর নির্ভর করে এই ফলের উপকারিতা। সঠিক সময়ে কলা খেলে শরীর পায় শক্তি, হজম হয় ভালো, এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
ব্যায়ামের আগে (১৫–৩০ মিনিট): একটি কলা দ্রুত শক্তি জোগায় ও পেশিকে কাজের উপযোগী করে তোলে।
নাশতার সঙ্গে: দই, ওটস বা পাউরুটির সঙ্গে কলা খেলে সারাদিন শরীর থাকে চাঙা, ক্লান্তি কম আসে।
দুপুর বা বিকেলে: দুপুরের খাবারের পর বা বিকেলে ক্ষুধা মেটাতে একটি কলা শক্তি ফিরিয়ে আনে ও মন ভালো রাখে।
খাবারের সঙ্গে: নাশতা বা দুপুরের খাবারের সঙ্গে খেলে ফাইবার হজম সহজ করে।
অপক্ব কলা: আধাপাকা বা কাঁচা কলায় থাকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়ায় ও হজমে সাহায্য করে।
রাতে খাওয়া: অনেকে মনে করেন রাতে কলা খেলে হজম ধীর হয়। তবে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। যাদের সমস্যা হয়, তারা রাত এড়িয়ে চলতে পারেন।
খাবারের আগে: ভাত বা রুটি খাওয়ার আধঘণ্টা আগে একটি কলা খেলে দ্রুত পেট ভরে যায়, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
স্ন্যাকস হিসেবে: দুপুর ও রাতের মাঝের ক্ষুধায় একটি কলা ক্যালরি কমিয়ে ক্ষুধা মেটায়।
অপক্ব কলা: এতে ফাইবার বেশি ও চিনি কম। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমাতে উপকারী।
ব্যায়ামের আগে: কলার তাৎক্ষণিক শক্তি পরবর্তীতে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।
একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ১০৫ ক্যালরি থাকে। পাশাপাশি রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬। পাকা কলায় তুলনামূলক বেশি চিনি থাকলেও অপক্ব কলায় ফাইবার ও স্টার্চের পরিমাণ বেশি। নাশতা বা ওটমিলের সঙ্গে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে কাজে দেয়।
প্রতিদিন একটি কলাই যথেষ্ট।
ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে নিয়মিত কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
সীমিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে খেলে কলা হবে উপকারী।
