দাদ বা রিংওয়ার্ম: সাধারণ ছত্রাক সংক্রমণ, সময়মতো চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৫-১০-২৭
ছবি সংগৃহীত

দাদ বা রিংওয়ার্ম আমাদের দেশে বহুল পরিচিত একটি চর্মরোগ। এটি মূলত এক ধরনের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, যা ত্বক, মাথার ত্বক এবং নখে সংক্রমণ ঘটায়। নামের সঙ্গে ‘ওয়ার্ম’ থাকলেও, এটি কোনো কৃমি দ্বারা নয় বরং ডার্মাটোফাইট নামক ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে। চিকিৎসায় সাধারণত অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম, মলম, পাউডার বা লোশন ব্যবহার করা হয়। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দাদের কারণ:
এই সংক্রমণ হয় মূলত ফাঙ্গাল ইনফেকশন (ডার্মাটোফাইট) থেকে। অতিরিক্ত ঘাম, টাইট ও অস্বাস্থ্যকর পোশাক পরা, নোংরা তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা কিংবা পোষা প্রাণীর শরীরে ফাঙ্গাল সংক্রমণ থাকলে দাদ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

দাদের লক্ষণ:
ত্বকে গোলাকার বা অর্ধবৃত্তাকার লালচে দাগ দেখা যায়, যার মাঝখান তুলনামূলক ফিকে এবং চারপাশ লালচে ও উঁচু থাকে। এতে প্রচণ্ড চুলকানি ও চামড়া খসখসে হয়ে যায়। মাথার ত্বকে দাদ হলে চুল পড়ে যেতে পারে।

যারা বেশি ঝুঁকিতে:
শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা দাদ হওয়ার ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি। এছাড়া যারা বেশি ঘামেন, যেমন খেলোয়াড়রা, তারাও ঝুঁকিতে থাকেন। ডায়াবেটিস রোগী, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা যারা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা মানেন না, তাদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

প্রতিরোধের উপায়:
প্রতিদিন পরিষ্কার কাপড় পরা এবং শরীর শুকনো রাখা জরুরি। টাইট জামা-কাপড়ের পরিবর্তে ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত। অন্যের তোয়ালে, গামছা, পোশাক বা চিরুনি ব্যবহার না করাই ভালো। পোষা প্রাণীর নিয়মিত যত্ন নিতে হবে ও পরিষ্কার রাখতে হবে।

চিকিৎসা:
স্থানীয়ভাবে অ্যান্টিফাঙ্গাল ক্রিম ব্যবহার করলে সাধারণত দাদ নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে দাগ বড় হলে বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার ওষুধ সেবন করতে হয়। স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে অবস্থার অবনতি হতে পারে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন করাটা জরুরি।

মনে রাখবেন:
দাদ কোনো প্রাণঘাতী রোগ নয়, তবে এটি অস্বস্তিকর এবং সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দাদ হলে অবহেলা না করে দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

error: Content is protected !!