সদ্য অনুষ্ঠিত গণভোটের ফল প্রকাশে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর তা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত ফলাফলে কয়েকটি আসনে অস্বাভাবিক ভোটদানের হার দেখা গেলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
প্রথম ঘোষিত তথ্যে দেখা যায়, সারাদেশে প্রায় ৬২ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ এবং ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন। অধিকাংশ আসনে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ১১টি আসনে ‘না’ ভোট এগিয়ে ছিল।
প্রাথমিক ফলাফলে রাজশাহী-৪ আসনে গণভোটের কাস্টিং হার ২৪৪ দশমিক ২৯৫ শতাংশ দেখানো হয়। ওই আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন, কিন্তু কাস্ট ভোট দেখানো হয় ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি। সেখানে ‘না’ ভোট ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়। সংশোধিত তথ্যে ওই আসনে ভোটের হার দেখানো হয় ৭২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং মোট কাস্ট ভোট ২ লাখ ৬ হাজার ৬১১টি।
এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত প্রার্থী আবদুল বারী সরদার।
সিরাজগঞ্জ-১ আসনেও একই ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। প্রাথমিক ফলাফলে সেখানে গণভোটের ভোটের হার দেখানো হয় মাত্র ৭ দশমিক ৮৯৯ শতাংশ। অথচ একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসনে ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি করে।
‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত এ গণভোটে প্রথমে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেখানো হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’-এর পক্ষে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোট। তখন ২৯৯টি সংসদীয় আসনে গড় ভোটদানের হার জানানো হয়েছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
পরবর্তীতে সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেখানো হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’-এর পক্ষে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ ভোট। একই সঙ্গে গড় ভোটদানের হার নির্ধারণ করা হয় ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে তথ্য প্রদর্শনে এসব অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
