শিরোনাম

রমজানে ইফতারে খেজুর কেন আদর্শ খাবার? জানালেন পুষ্টিবিদ

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০২-২৫
ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে খেজুর যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের কোটি মুসলমান এই ফল দিয়ে রোজা ভাঙেন। ইসলামী ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গ্রন্থে ইফতারে খেজুর গ্রহণের পরামর্শ রয়েছে। তবে ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও খেজুর রোজাদারদের জন্য একটি উপকারী খাবার।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পুষ্টিবিদ Shahnaz Bashir বলেন, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীর দ্রুত গ্লুকোজের চাহিদা অনুভব করে। খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে এতে জটিল কার্বোহাইড্রেটও রয়েছে, যা দীর্ঘস্থায়ী শক্তি সরবরাহে সহায়ক। তাই সারাদিন রোজা রাখার পর খেজুর শরীরের জন্য একটি কার্যকর শুরু হতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর

খেজুরে ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। অল্প পরিমাণেই এটি শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় উপবাসের পর পাকস্থলীর জন্যও এটি তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য।

পানিশূন্যতা রোধে সহায়ক

যদিও খেজুর শুকনো ফল, তবু এতে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট—বিশেষ করে পটাশিয়াম—থাকে, যা শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদদের মতে, খেজুর ও পানি একসঙ্গে গ্রহণ করলে শক্তি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি শরীরের তরল ভারসাম্য রক্ষা সহজ হয়। সাধারণত খেজুর খাওয়ার পর অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন পড়ে না।

অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে পারে

রমজানে অনেকের ওজন কমলেও, ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী অনেকেই তিন, পাঁচ বা সাতটি খেজুর খেয়ে নামাজ আদায় করেন, এরপর মূল খাবার গ্রহণ করেন। খেজুরে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে এবং দ্রুত পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।

হজমে উপকারী

রোজার সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। খেজুর ফাইবারের ভালো উৎস হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়তা করে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণের পরামর্শ দেয়। সুষম খাদ্য পরিকল্পনায় খেজুর বা অন্যান্য শুকনো ফল যুক্ত করলে ফাইবারের চাহিদা পূরণ সহজ হয়।

খেজুর না পছন্দ হলে বিকল্প কী?

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে নির্দিষ্ট সময় উপবাস বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা অনেকাংশে রমজানের রোজার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। পুষ্টিবিদ Shahnaz Bashir বলেন, কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো ধরনের খেজুর পছন্দ না করেন, তাহলে অন্য জাতের খেজুর চেষ্টা করতে পারেন। বিভিন্ন ধরনের খেজুরের গঠন ও স্বাদ আলাদা—কিছু শক্ত, কিছু নরম; কারও খোসা পুরু, কারও পাতলা।

এছাড়া খেজুর সরাসরি খেতে ভালো না লাগলে দুধ, দই ও শুকনো ফলের সঙ্গে ব্লেন্ড করে স্মুদি তৈরি করা যেতে পারে। এতে স্বাদ ও পুষ্টি—দুটিই বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে, ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি পুষ্টিগুণের কারণেও খেজুর রমজানে ইফতারের জন্য একটি উপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

error: Content is protected !!