জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের পরিবহনে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ধাপে ধাপে ইলেকট্রিক বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস অনলাইন নাকি অফলাইনে চলবে—এ বিষয়ে আগামী রোববার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি ব্যয় কমাতে বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ থেকে ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন। একইভাবে সরকারি যানবাহনের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহারও মাসিক ভিত্তিতে ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যেহেতু দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর, তাই আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার প্রভাব সরাসরি পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।