দেশে হামের ভয়াবহতা অব্যাহত, প্রতি সপ্তাহে প্রাণ হারাচ্ছে প্রায় ৬০ শিশু

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৫-৩০
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে ৫৭৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৫৭ জনেরও বেশি শিশুর প্রাণহানি ঘটছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে চলমান এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সর্বশেষ সপ্তাহেও ৫৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডব্লিউএইচওর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা কমলেও হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং মৃত্যুর হার এখনও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৭৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে রোগীর প্রকৃত চিত্র এখনই স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতির তীব্রতা বিচার করা ঠিক হবে না। কারণ সীমিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নজরদারির ঘাটতির কারণে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই আড়ালে থেকে যেতে পারে। এ অবস্থায় মৃত্যুর হারই প্রাদুর্ভাবের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সময়মতো টিকা না পাওয়া, অপুষ্টি এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ঘাটতি—এসব কারণ বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত এপ্রিল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হলেও রোগটি ইতোমধ্যে দেশের সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, অতীতের মতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদানের কার্যক্রম জোরদার করা হয়নি। পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও রোগ ব্যবস্থাপনায়ও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে, যার ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঢাকা ছাড়ার ফলে সংক্রমণ গ্রামাঞ্চলে আরও বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় চলমান প্রাদুর্ভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য এই সংকট আরও বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

error: Content is protected !!