ছবি: সংগৃহীত
রান্নার অপরিহার্য উপাদান রসুন শুধু খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ২ কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
রসুনে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামক সক্রিয় উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, ফলে সর্দি-কাশি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে। ২০১৫ সালের একটি গবেষণায়ও নিয়মিত রসুন সেবনের সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ২০২০ সালের এক গবেষণায় রসুনকে হৃদ্স্বাস্থ্য রক্ষায় সম্ভাবনাময় খাদ্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রসুনে থাকা সালফারসমৃদ্ধ যৌগ শরীর থেকে কিছু ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়। এটি লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত কাঁচা রসুন খেলে হজমে সহায়ক কিছু এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়তে পারে। এর ফলে খাদ্য সহজে হজম হয় এবং অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি উৎসাহিত হয়, যা পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী।
রসুনে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস পাকস্থলী ও কোলোরেক্টাল ক্যান্সারসহ কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে খালি পেটে অথবা খাবারের সঙ্গে ১ থেকে ২ কোয়া কাঁচা রসুন খাওয়া যেতে পারে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
