বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বন্যা শঙ্কা, প্রস্তুত ৫৩৭ আশ্রয়কেন্দ্র

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৯
ছবি : সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। অধিকাংশ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কয়েকটি পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বৃষ্টিতে পাহাড় ও টিলা ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।

সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সিলেট জেলা প্রশাসন জেলার ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। এছাড়া ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সব উপজেলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢলের পানি সিলেটের নদ-নদীতে নেমে এসে পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অধিকাংশ নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও অমলশিদ ও কানাইঘাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত মেঘনা অববাহিকায় নেমে যাওয়ার কারণে সম্ভাব্য বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। এ অবস্থায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি অন্তত দুই থেকে তিন দিনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, সরকারি হিসাবে ঝুঁকিপূর্ণ টিলার সংখ্যা ১৬০টি হলেও বাস্তবে এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৩৮৬টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় বসবাস করছে।

তিনি জানান, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিলেটে টিলা ধসে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অতিবৃষ্টির পাশাপাশি নির্বিচারে টিলা কাটার কারণে ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং অবৈধ টিলা কাটা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, আগামী কয়েক দিনে মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে উজানের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা কম।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি কর্পোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বৃষ্টির মধ্যেও কাজ করছেন। নিচু এলাকায় পানি জমলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, জেলার সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ টিলা এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জেলার ১৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ৫৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি মাঠ প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

error: Content is protected !!