ছবি : সংগৃহীত
গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফল কাঁঠাল। বেশির ভাগ মানুষ কাঁঠালের কোষ খাওয়ার পর বিচিগুলো ফেলে দেন। অথচ এই বিচিগুলোও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বিভিন্নভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। একটি কাঁঠালে সাধারণত ১০০ থেকে ৪০০টি পর্যন্ত ভোজ্য বিচি থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সঠিকভাবে রান্না করে খেলে কাঁঠালের বিচি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকাও প্রয়োজন।
কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও খাদ্যআঁশ। প্রতি ১০০ গ্রাম বিচিতে প্রায় ২৫.৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং প্রায় ১.৫ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়। এছাড়া এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের থায়ামিন ও রিবোফ্লাভিনও এতে বিদ্যমান, যা শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে।
খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় কাঁঠালের বিচি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যেমন ফ্ল্যাভোনয়েড ও স্যাপোনিন, শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ‘জ্যাকালিন’ নামের একটি উপাদান নিয়ে ক্যানসারবিরোধী সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চলছে।
এছাড়া গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কাঁঠালের বিচির কিছু উপাদান ই-কোলাই ও সালমোনেলার মতো কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মানুষের জন্য কাঁঠালের বিচি সমানভাবে উপযোগী নাও হতে পারে। যারা অ্যাসপিরিন, অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত কাঁঠালের বিচি খাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এছাড়া কাঁচা বিচিতে ট্যানিন ও ট্রিপসিন ইনহিবিটর নামের কিছু উপাদান থাকে, যা শরীরে পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কাঁচা অবস্থায় এটি খাওয়া ঠিক নয়।
কাঁঠালের বিচি ভালোভাবে রান্না করে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সঠিকভাবে প্রস্তুত করে পরিমিত পরিমাণে খেলে কাঁঠালের বিচি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর একটি সংযোজন হতে পারে। তবে কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
