ছবি : সংগৃহীত
একসময় চা বলতে বেশির ভাগ মানুষের কাছে দুধ-চিনি মেশানো প্রচলিত পানীয়ই বোঝাত। তবে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক বছরে হারবাল বা ভেষজ চায়ের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ঘুমের মান উন্নত করা, হজমে সহায়তা, ওজন নিয়ন্ত্রণ কিংবা শরীরকে সতেজ রাখতে অনেকেই নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের হারবাল চা পান করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হারবাল চা সাধারণত বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, ফুল, পাতা, ফল বা মসলার নির্যাস দিয়ে তৈরি হয়। প্রচলিত চায়ের মতো এতে সবসময় চা-পাতা ব্যবহার করা হয় না। ফলে অধিকাংশ হারবাল চায়ে ক্যাফেইন থাকে না বা খুবই অল্প পরিমাণে থাকে।
জনপ্রিয় হারবাল চাগুলোর মধ্যে রয়েছে আদা, পুদিনা, ক্যামোমাইল, লেমনগ্রাস, হিবিস্কাস, তুলসী ও দারুচিনির চা।
আদা চা হজমে সহায়তা করতে পারে, বমিভাব কমাতে এবং ঠান্ডাজনিত অস্বস্তি কিছুটা লাঘব করতে ভূমিকা রাখে। পুদিনা চা পেটফাঁপা ও বদহজমের সমস্যায় উপকারী হিসেবে পরিচিত। ক্যামোমাইল চা শরীর ও মনকে শিথিল করতে সাহায্য করে বলে অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে এটি পান করেন। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, হিবিস্কাস চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে তুলসী ও লেমনগ্রাস চা শরীরকে সতেজ রাখতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি হলেই কোনো কিছু শতভাগ নিরাপদ—এমন ধারণা সঠিক নয়। ভেষজ উপাদানেও বিভিন্ন সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা শরীরে কার্যকর প্রভাব ফেলে এবং কিছু ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণও হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ক্যামোমাইল বা নির্দিষ্ট কিছু ফুলজাতীয় ভেষজে কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে। অতিরিক্ত আদা চা পান করলে কিছু মানুষের অম্বল বা পাকস্থলীর অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবার হিবিস্কাস চা রক্তচাপ কমানোর ওষুধের সঙ্গে গ্রহণ করলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি বা লিভারের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত হারবাল চা পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের জন্য দিনে এক থেকে দুই কাপ হারবাল চা সাধারণত নিরাপদ। তবে এটি কখনোই বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নয়। শরীরের দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত পানি পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একই দিনে একাধিক ধরনের হারবাল চা পান করা হলেও পরিমিতি বজায় রাখা প্রয়োজন। যেমন সকালে আদা চা, দুপুরে লেমনগ্রাস চা এবং রাতে ক্যামোমাইল চা পরিমিত পরিমাণে পান করলে সাধারণত সমস্যা হয় না। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের ভেষজ বা অতিরিক্ত পরিমাণে হারবাল চা গ্রহণ করলে অপ্রত্যাশিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ‘ডিটক্স’ বা ‘স্লিমিং’ হারবাল চায়ের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে নিয়মিত পান করা উচিত নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হারবাল চা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি উপকারী অংশ হতে পারে, তবে এটিকে অলৌকিক কোনো স্বাস্থ্যপানীয় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই।
