লিভার সুস্থ রাখতে সকালে যে ৫ অভ্যাস জরুরি

: অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০২৬-০৬-১৩
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ফ্যাটি লিভার ও লিভার সিরোসিসের মতো নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার রক্তে শর্করার ভারসাম্য রক্ষা, হজমে সহায়তা এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান অপসারণের কাজ করে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘদিন লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব। সকালে অনুসরণ করা যেতে পারে এমন পাঁচটি সহজ অভ্যাস নিচে তুলে ধরা হলো—

১. ঘুম থেকে উঠে পান করুন হালকা গরম পানি

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পান করা উপকারী। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে, পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে ভূমিকা রাখে।

২. খালি পেটে লেবু-পানি বা ভিনিগার এড়িয়ে চলুন

অনেকে লিভার পরিষ্কার বা ‘ডিটক্স’ করার উদ্দেশ্যে সকালে লেবু-পানি কিংবা অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার পান করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পানীয় সবার জন্য উপযোগী নয়। অনেকের ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি, গ্যাস বা বুকজ্বালার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাধারণ গরম পানি পান করাই যথেষ্ট।

৩. সময়মতো সকালের নাস্তা করুন

সকালের খাবার বাদ দেওয়া বা অনেক দেরিতে নাস্তা করার অভ্যাস লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে নাস্তা করা উচিত। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করে, যা নিয়ন্ত্রণে লিভারকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

৪. খালি পেটে চা বা কফি নয়

অনেকেই দিনের শুরু করেন চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে এসব পানীয় গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা এবং গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই আগে হালকা কিছু খেয়ে এরপর চা বা কফি পান করাই ভালো।

৫. মানসিক চাপমুক্তভাবে দিন শুরু করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মানসিক চাপ লিভারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কাজের চাপের মধ্যে না গিয়ে কিছু সময় ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম কিংবা হালকা যোগব্যায়ামে ব্যয় করলে মন ও শরীর দুটোই ভালো থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

চিকিৎসকদের মতে, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুদের মধ্যেও ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে লিভারজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

error: Content is protected !!