ছবি : সংগৃহীত
সিলেট মহানগরীতে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ট্রাফিক পুলিশ। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফিটনেস সনদ এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের ক্ষেত্রে হেলমেট ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে আইন মেনে চলা চালকদের মিষ্টি খাইয়ে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
সিলেট মহানগর ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে পরিচালিত এই কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন সিলেট পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়, মদনমোহন কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও স্কাউট সদস্যরা। নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলা এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রবিবার (১৪ জুন) সকালে সিলেট মহানগর পুলিশ লাইন্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পরে নগরীতে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত মহানগরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করা হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আটক যানবাহনগুলো রেকার করা হয়েছে এবং যেসব চালক প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ্ত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং অতিরিক্ত কমিশনার এনামুল হক। এছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন অতিথি বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার, ফুটপাত না থাকলে রাস্তার ডান পাশ দিয়ে চলাচল, ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার এবং চলন্ত যানবাহনে ওঠানামা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সকল চালককে ট্রাফিক আইন মেনে যানবাহন পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, কর্মসূচিতে কোথাও ফুল বিতরণ করা হয়নি। তবে যারা ট্রাফিক আইন মেনে চলেছেন এবং প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রেখেছেন, তাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সচেতনতামূলক র্যালিতে পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়, মদনমোহন কলেজ এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছেন।
এদিকে ট্রাফিক পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকের মতে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি উৎসাহমূলক এমন কার্যক্রম মানুষের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা আরও বাড়াতে সহায়ক হবে।
