চিপস-পপকর্নে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিষাক্ত উপাদান, বলছে গবেষণা

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-07-27
ছবি : সংগৃহীত

শিশুদের পাশাপাশি বড়দের কাছেও চিপস ও পপকর্ন বেশ জনপ্রিয় নাশতা। অবসর সময় কিংবা হালকা ক্ষুধা মেটাতে অনেকেই নিয়মিত এসব খাবার খান। তবে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব খাবারের মাধ্যমে শরীরে এমন কিছু বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করতে পারে, যা ক্যান্সারসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

সংবাদমাধ্যম পিপলের এক প্রতিবেদনে গবেষণাটির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রুটগার্স ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে একদল গবেষক নিউ জার্সির ৩৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর গবেষণা চালান। তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রস্রাবের নমুনা বিশ্লেষণ করে ‘মাইকোটক্সিন’ নামে পরিচিত বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

মাইকোটক্সিন হলো কিছু নির্দিষ্ট ছত্রাকের উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, শস্য, বাদাম, শুকনো ফল, আপেল ও কফি বিনসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে এ ধরনের বিষাক্ত উপাদান তৈরি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে এটি নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগও রয়েছে।

‘জার্নাল অব এক্সপোজার সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এপিডেমিওলজি’তে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরে বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতির মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে পপকর্ন, কর্ন চিপস ও কর্ন টরটিলার মতো ভুট্টা ও শস্যজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে এই উপাদানের উপস্থিতির যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

গবেষণায় বিশেষভাবে ‘জিয়ারালিনোন’ নামের একটি মাইকোটক্সিনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি ‘ফিউজারিয়াম’ নামের এক ধরনের ছত্রাক থেকে উৎপন্ন হয় এবং ভুট্টা, গম ও ওটসের মতো ফসল দূষিত করতে পারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এই বিষাক্ত উপাদান দূষিত খাবার গ্রহণকারী গবাদিপশুর মাংস ও দুধের মাধ্যমেও মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এমনকি উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শেও জিয়ারালিনোন পুরোপুরি নষ্ট নাও হতে পারে।

জিয়ারালিনোনকে ‘মাইকোইস্ট্রোজেন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। কারণ, এটি মানবদেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো আচরণ করতে পারে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশে ইস্ট্রোজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে গর্ভাবস্থায় এ ধরনের উপাদানের সংস্পর্শ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, খাদ্যপণ্যে মাইকোটক্সিনের উপস্থিতি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

error: Content is protected !!