খামেনি নিহত, এখন ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: ২০২৬-০৩-০১

ইরানে সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের সংবিধানে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু বা দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার ক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী, একটি তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী পর্ষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। এই পর্ষদে থাকবেন দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা।

একই বিষয়ে বিবিসি লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আলেম দেশ পরিচালনার তত্ত্বাবধান করবেন। পাশাপাশি সংবিধান অনুযায়ী, Assembly of Experts নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সদস্যদের দ্রুত একত্রিত হওয়া কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে একই দিন খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত উত্তরসূরি নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সাবেক সচিব আলী লারিজানি-কে কিছু প্রশাসনিক কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে খামেনি নিহত হন। ইরান সরকার তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রাষ্ট্রীয় শোক হিসেবে ১ মার্চ থেকে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।

হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার পেছনে তিনটি লক্ষ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা, দ্বিতীয়ত দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তৃতীয়ত শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।

সব মিলিয়ে, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানে একটি নির্ধারিত সাংবিধানিক কাঠামো থাকলেও চলমান সামরিক উত্তেজনা পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

error: Content is protected !!