ছবি : সংগৃহীত
স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে অ্যাভোকাডোর। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলটি সালাদ, টোস্টসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবারে ব্যবহার করা হয়। পুষ্টিবিদদের মতে, বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকায় একে অনেকেই ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রচুর খাদ্যআঁশ (ফাইবার), ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। অন্যান্য অনেক ফলের তুলনায় এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ বেশি, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদরা জানান, উচ্চ ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বির কারণে অ্যাভোকাডো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডো সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস সামগ্রিকভাবে খাবারের গ্লাইসেমিক লোড কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো যুক্ত করার সহজ উপায় হিসেবে সকালের নাস্তায় ব্রাউন ব্রেডের সঙ্গে এর শাঁস মেখে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সিদ্ধ ডিমের সঙ্গে খেলে এটি আরও পুষ্টিকর খাবারে পরিণত হয়। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় তৃপ্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের মতে, অ্যাভোকাডো ডায়াবেটিসের কোনো চিকিৎসা বা ওষুধ নয়। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, অ্যাভোকাডো উপকারী হলেও এটি আপেল, পেয়ারা বা অন্যান্য পুষ্টিকর ফলের বিকল্প হিসেবে নয়; বরং বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবেই নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
