ছবি: সংগৃহীত
খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, ভারী লাগা কিংবা হজমে অস্বস্তি—এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই ঘরোয়া উপায়ের ওপর ভরসা করেন। একইভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও অনেকে প্রাকৃতিক উপাদান বেছে নেন। রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান আদা এ ক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়। আদা দিয়ে তৈরি চা হজমে কিছুটা সহায়তা করতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে আদা চাকে ওজন কমানোর কোনো ‘ম্যাজিক পানীয়’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আদা হজমতন্ত্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি-তে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, আদা খাবারকে পাকস্থলী থেকে দ্রুত অন্ত্রে পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে। তবে হজমের সব ধরনের সমস্যা কমানোর ক্ষেত্রে আদার কার্যকারিতার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
খাবারের পর পেট ফুলে যাওয়া বা ভারী লাগা অনেকের নিয়মিত সমস্যা। ২০১১ সালের একটি গবেষণায় আদা ও আর্টিচোকের সমন্বয়ে তৈরি একটি সাপ্লিমেন্ট হজমের অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, বমিভাব এবং পেট ভরা অনুভূতি কমাতে সহায়ক হয়েছিল।
তবে মনে রাখতে হবে, ওই গবেষণায় সাধারণ আদা চা নয়, আদা ও আর্টিচোকের বিশেষ সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছিল। তাই একই ফল এক কাপ ঘরোয়া আদা চা থেকেও পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
আদা চা সরাসরি শরীরের চর্বি ‘গলিয়ে’ ফেলে—এমন কোনো শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে ২০২৫ সালের একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আদার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীদের কোমরের পরিধি ও শরীরের চর্বির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে, মোট শরীরের ওজন বা বিএমআই কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে শুধু আদা চা পান করে ওজন কমানোর চেষ্টা করা বাস্তবসম্মত নয়। বরং সুষম খাবার, পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ এবং নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এটি সাধারণ একটি পানীয় হিসেবে রাখা যেতে পারে।
আদা চা খাওয়ার জন্য সকাল বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময় সবচেয়ে কার্যকর—এমন শক্ত প্রমাণ নেই। যাদের খাবারের পর হজমে অস্বস্তি হয়, তারা সে সময় আদা চা পান করতে পারেন।
রাতে পান করার ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। কালো চা বা অন্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে শুধু আদা পানিতে ভিজিয়ে তৈরি পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ক্যাফেইন যাদের ঘুমে সমস্যা তৈরি করে, তাদের জন্য এটি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।
আদা চা সাধারণভাবে পরিচিত একটি পানীয় হলেও এটি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে উপকারী নাও হতে পারে। নিয়মিত পেটের সমস্যা, অতিরিক্ত পেট ফাঁপা বা অন্য কোনো শারীরিক অস্বস্তি থাকলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুতরাং, আদা চা হজমে সহায়তা করতে পারে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি ওজন কমানোর প্রধান উপায় নয়; স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
