ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশিদের জন্য বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সুযোগ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিশেষ করে দেশটির শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে তারা।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে।
বৈঠকে সারাহ কুক জানান, বাংলাদেশিদের জন্য শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে ব্রিটিশ সরকার কাজ করতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের যেসব খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতের উপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান পঞ্চম। তবে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বাংলাদেশিদের আশ্রয়ের আবেদন অনুমোদনের হার তুলনামূলকভাবে কম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে করা মোট আশ্রয় আবেদনের ৪০ শতাংশ অনুমোদিত হলেও বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনুমোদনের হার ছিল ১৪ শতাংশ।
তবে নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার মতো অনিয়মিত পথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।
বৈঠকে মানবপাচার ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বিভিন্নভাবে শোষণের বিষয়টিও আলোচনা হয়। পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উন্নত করতে ব্রিটেনের কাছ থেকে বাংলাদেশ আরও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বাংলাদেশের প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পেশাগত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ সনদ অর্জনের সুযোগ তৈরি করা গেলে বাংলাদেশি কর্মীরা নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনে আরও উৎসাহিত হবেন বলে তিনি মত দেন।
