পরিমিত ব্ল্যাক কফি কমাতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-07-24
ছবি : সংগৃহীত

কফিপ্রেমীদের জন্য সুখবর। পরিমিত পরিমাণে ব্ল্যাক কফি পান করলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি কমতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের (AHA) সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন গ্রহণ নিরাপদ। এই পরিমাণ ক্যাফেইন সাধারণত প্রায় ৩ থেকে ৫ কাপ কফিতে পাওয়া যায়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ২ থেকে ৪ কাপ কফি পানকারীদের মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির সম্ভাব্য উপকার শুধু ক্যাফেইনের কারণে নয়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ফলে পরিমিত ব্ল্যাক কফি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।

তবে কফিতে কী মেশানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা বেশি পরিমাণ দুধ কফিতে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে, যা এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকার কমিয়ে দিতে পারে। কিছু গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহারের সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এনার্জি ড্রিংকস ও ক্যাফেইন শটকে সাধারণ কফির সঙ্গে এক করে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। এসব পানীয়তে অল্প পরিমাণ তরলে তুলনামূলক বেশি ক্যাফেইন ও অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান থাকতে পারে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দনসহ বিভিন্ন হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এমনকি সুস্থ তরুণদের মধ্যেও অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংকস গ্রহণের পর হৃদস্পন্দনজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ার নজির রয়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত ৪ থেকে ৫ কাপের বেশি কফি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই কফি পানের ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

কফি তৈরির ধরনও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পেপার-ফিল্টার ব্যবহার করে তৈরি কফি এবং ইনস্ট্যান্ট কফিতে ক্যাফেস্টল নামের একটি উপাদান তুলনামূলক কম থাকে। এই উপাদান রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা এলডিএল বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ফ্রেঞ্চ প্রেস, তুর্কি কফি কিংবা ফুটিয়ে তৈরি করা কফিতে ক্যাফেস্টলের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।

তবে ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। বয়স, জিনগত বৈশিষ্ট্য, ওষুধ সেবন, লিভারের কার্যকারিতা এবং নিয়মিত কফি পানের অভ্যাস—এসব বিষয় ক্যাফেইনের প্রভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

যাদের অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, নিয়ন্ত্রণে না থাকা উচ্চ রক্তচাপ, ঘুমের সমস্যা রয়েছে, যারা গর্ভবতী অথবা ক্যাফেইনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের কফি পানের পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত ব্ল্যাক কফি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। তবে শুধু কফির ওপর নির্ভর না করে হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাসও বজায় রাখা জরুরি।

error: Content is protected !!