যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মুসলিম প্রার্থীরা, কংগ্রেসে জয়ী অন্তত ৭ জন

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-11-05
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম) ইতিহাস গড়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। দেশটির কংগ্রেসের দুই কক্ষেই মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে। নির্বাচনে অন্তত সাতজন মুসলিম প্রার্থী কংগ্রেসে জয়লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সিনেটর এবং ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য।

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত ধর্ম ও রাজনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম রিলিজিয়ন নিউজ সার্ভিসের (RNS) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিজয়ী মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এই বিজয় দেশটির মুসলিম রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদে জয়ী ছয় মুসলিম

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য এসেছে।

জয়ী ছয়জন হলেন—নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আদম হামাওয়ে, নিউইয়র্কের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের, মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে রাশিদা তালাইব, মিনেসোটার ৫ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে ইলহান ওমর, ইন্ডিয়ানার ৭ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে লতিফা সাইমন।

এর মধ্যে আদম হামাওয়ে ও দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে রাশিদা তালাইব, ইলহান ওমর, আন্দ্রে কারসন ও লতিফা সাইমন নিজেদের আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনেও মুসলিমদের সাফল্য

শুধু কংগ্রেসেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

মিশিগানে আব্বাস আলাউইহ, জালাল আবদুল্লাহ ও আলাবাস ফারহাত অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় জয় পেয়েছেন। ইলিনয়ে নাবিলা সৈয়দ সিনেটের একটি আসনে জয়লাভ করেছেন। ওহাইওতে মুনিরা আবদুল্লাহি ও ইসমাইল মোহাম্মদও নিজ নিজ আসনে জয় পেয়েছেন।

এ ছাড়া নিউইয়র্কে আবের কাওয়াস, জর্জিয়ায় রুওয়া রোমান এবং কলোরাডোতে ইমান জোদেহর মতো মুসলিম প্রার্থীরাও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করেছেন।

১৬০-এর বেশি মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয়, নাগরিক অধিকার, অভিবাসননীতি এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন মুসলিম প্রার্থী প্রচারণার সময় ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক আক্রমণেরও মুখোমুখি হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

১২ জন মুসলিম বিজয়ী হওয়ার দাবিটি কতটা সত্য?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ১২ জন মুসলিম প্রার্থীর জয়ী হওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে অন্তত সাতজন মুসলিমের জয় নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বাইরে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়েও একাধিক মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।

তাই সব পর্যায়ের নির্বাচিত প্রার্থীকে একত্র করে ১২ জনের দাবিটি নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আব্দুল এল-সায়েদের সিনেটে নির্বাচিত হওয়া মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

তথ্যসূত্র: Religion News Service (RNS)

error: Content is protected !!