১ নভেম্বর থেকে খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন-লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, প্রথম নিবন্ধন ফ্রি

: বালাগঞ্জের আওয়াজ
প্রকাশ: 2026-10-23
ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন এবং বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক হচ্ছে। নতুন নিয়মে প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন করতে কোনো ফি লাগবে না।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) প্রণীত ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন বিধানের আওতায় রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাদ্য উৎপাদনকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং নির্ধারিত শ্রেণির আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসবেন।

প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির প্রচলিত খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে নিবন্ধন গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। এসব ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে।

এ তালিকায় রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, মিষ্টির দোকান, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ নির্ধারিত বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসা। রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রেতারাও এ নিয়মের আওতায় পড়বেন।

এ ছাড়া নির্ধারিত পাইকারি খাদ্য ব্যবসা, কাঁচা ও তাজা খাদ্য আমদানি, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও ভোজ্য লবণ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বিধান অনুসরণ করতে হবে।

শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না। বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের ধরন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম অনুযায়ী আলাদা লাইসেন্স বা অতিরিক্ত অনুমোদন নিতে হবে।

এ ধরনের পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বয়স্ক ব্যক্তি ও নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য তৈরি বিশেষ খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক খাদ্য এবং নিউট্রাসিউটিক্যালজাত পণ্য।

এ ছাড়া জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য, কিরণ-সম্পাতকৃত খাদ্য, অভিনব খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ বা ফোর্টিফায়েড খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রবিধানমালার তফসিল-১০ অনুযায়ী লাইসেন্স ও নিবন্ধনের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ফি ১০ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা।

তবে এসব ফি সব ধরনের খাদ্য ব্যবসার জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার শ্রেণি, লাইসেন্সের ধরন এবং তফসিল-১০-এ নির্ধারিত ফি যাচাই করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরম ৫.১ এবং বাধ্যতামূলক লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ফি পরিশোধের পাশাপাশি প্রবিধানমালায় উল্লেখিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

নতুন নিয়মে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষ হলে তা নবায়ন করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে পারবেন এবং অভিযোগের প্রয়োজনে নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে পণ্যে নিবন্ধন নম্বর থাকলেই সেটি নিরাপদ—এমন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অন্যান্য প্রযোজ্য বিধিবিধানও মানতে হবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী দণ্ডের মুখে পড়তে হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা, উৎপাদন ও বিপণনে শৃঙ্খলা আনা এবং ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

error: Content is protected !!